নিজস্ব প্রতিবেদক
বয়স মাত্র ১৬, যার কণ্ঠে প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হতো মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের ঐশ্বরিক বাণী। অথচ মরণব্যাধি ক্যান্সারের কঠিন ছোবলে আজ স্তব্ধ হয়ে যেতে বসেছে ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ মো. সোহানুর রহমানের জীবনের সুন্দর স্বপ্নগুলো। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিনা গ্রামের নিঃস্ব কৃষক মো. নজরুল ইসলামের ঘর আলো করা একমাত্র সন্তান আজ হাসপাতালের হিমশীতল বিছানায় কাতরাচ্ছে শুধুই একটুকরো জীবনের আকুতি নিয়ে।
ঘটনার শুরু ২০২২ সালে। হঠাৎ করেই শান্ত-শিষ্ট সোহানুরের শরীরে বাসা বাঁধে বিষাক্ত ক্যান্সার। শুরু হয় বাঁচার এক নিদারুণ যুদ্ধ। গত তিন বছর ধরে ঘরের শেষ সম্বল ও ভিটেমাটি বিক্রি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালিয়েছেন হতদরিদ্র বাবা-মা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, জীবন বাঁচাতে সম্প্রতি চিকিৎসকরা কেটে বাদ দিয়েছেন তার বাম পা-টি।
একটি পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে হার মানেনি কিশোর সোহানুর। সে এখন সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু চিকিৎসা থামিয়ে দিয়েছে নির্মম বাস্তবতা অর্থের অভাব। কিমোথেরাপি আর নিত্যদিনের জরুরি ওষুধের খরচ চালানোর সামর্থ্য আর নেই নিঃস্ব পরিবারটির। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে কোরআনের এই পাখি।
ছেলের এমন করুণ দশা দেখে অশ্রুসজল চোখে মা সূর্য খাতুন আকুতি জানান, “আমার কোল খালি হতে দিয়েন না। নাড়িছেঁড়া একটাই ধন আমার, সে শুধু বেঁচে থাকতে চায়। জমি-জমা যা ছিল সব শেষ। এখন ওষুধ কেনার মতো একটা টাকাও হাতে নাই। আপনারা সবাই মিলে একটু দয়া করলে আমার সোনা মানিকটা হয়তো আবারও আমার বুকে ফিরে আসবে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে অসহায় বাবা নজরুল ইসলাম বলেন,চোখের সামনে কলিজার টুকরাটাকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখছি, কিন্তু বাবা হয়েও কিছুই করার সামর্থ্য নেই। একটা পা তো আগেই হারিয়েছে, এখন ছেলেটার প্রাণটাই না চলে যায়! ডাক্তাররা বলেছেন চিকিৎসা চালালে ছেলেটা সুস্থ হবে। কিন্তু টাকা পাব কোথায়? সমাজের বিত্তবান ভাইদের কাছে হাত জোর করে বলছি আমার ছেলেটার পাশে একটু দাঁড়ান, ওকে বাঁচান।”
অসহায় এই হাফেজকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং তার চিকিৎসার চাকা সচল রাখতে সমাজের বিত্তবান, সহৃদয় ও দয়ালু মানুষদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। আপনার সামান্য সহায়তায় হয়তো বেঁচে যেতে পারে একটি উদীয়মান জীবন।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম:
* নগদ (বাবা - নজরুল ইসলাম): 01722-696831