মোঃ জিপরুল হোসাইন নিজস্ব প্রতিবেদক
চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নারী শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজ সরকারীকরণ এখন সময়ের দাবি। সরকারীকরণের এ জোর দাবি জানিয়েছেন কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৩০ লক্ষ সচেতন মানুষ।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসারে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজটির অবকাঠামো বেশ উন্নত। কলেজটিতে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজ বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিষয়সহ একাধিক বিভাগ। রয়েছে মানসম্মত একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার। প্রতিষ্ঠানটিতে একাদশ-দ্বাদশ, বিএমটি শাখা এবং ডিগ্রি (পাস) কোর্স মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ছাত্রী অধ্যায়নরত। প্রতি বছরই এই কলেজ থেকে ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যায়।
বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি অর্জন করেছে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জাফর ইকবাল জেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন। কলেজটির বেশ কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ছাত্রীরা শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে।
তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী অভিভাবক আব্দুল খালেক বলেন, কলেজের অবকাঠামো, পাঠদান প্রক্রিয়া, ফলাফল সব কিছুই জাতীয় মানের। তাই কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকার ৩০ লক্ষ মানুষের দাবী নারী শিক্ষা প্রসারে কলেজটিকে দ্রুত সরকারিকরণ করা হোক।
কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুর রহমান টুটুল বলেন,
চলনবিল এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র ভরসা এই কলেজটি। অনেক অভিভাবকই দূর-দূরান্তে মেয়েদের পাঠাতে চান না। কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার খরচ আরও কমবে এবং ঝরে পড়ার হার শূন্যে নেমে আসবে। নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটবে। আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোড় দাবী জানাই, যেন দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি ঘোষণা করা হয়।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জাফর ইকবাল বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পার করে আজ কলেজটি এই অবস্থানে এসেছে। আমাদের অবকাঠামো অত্যন্ত ভালো এবং প্রতি বছরের ফলাফলও সন্তোষজনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবার আগে বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এবং নারী শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজটিকে জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলনবিলবাসীর এই প্রাণের দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।