নিজস্ব প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে শাহ আলম গংয়ের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিবারগুলোকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে দেবীপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়াহিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে শাহ আলমের মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শাহ আলম তাকে মারধর করতে করতে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান। পরে শাহ আলম, তার ছেলে মনি, মাসুদ, ইমন, আলমাছ, নান্নু, পিন্টু, সেরাজুল, সোহেল, সচিবসহ আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি, শাবল, লোহার পাইপ, রড ও হাসুয়া নিয়ে হামলা চালালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং টাকা-পয়সা লুটপাট করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবু (পিতা: ইয়াহিয়া), মোক্তার (পিতা: গোলজার), আবু তালহা (পিতা: জুয়েল), মোহাম্মদ (পিতা: গোলজার), ইয়াহিয়া (পিতা: গোলজার), জসনা (স্বামী: মোক্তার), ফরিদা (স্বামী: ইয়াহিয়া) ও সুরাতন (স্বামী: মোহাম্মদ)। এ ঘটনায় পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যরাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পরও তিনটি পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকালেও শাহ আলম গংয়ের লোকজন বাঁশের লাঠি, লোহার পাইপ ও রড নিয়ে সেখানে মহড়া দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে পারছেন না। এমনকি আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্যও বাইরে যেতে পারছেন না। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সব সদস্য চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।